আসলাম উদ্দিন, প্রতিবেদকঃ
খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা থামছেই না। এ ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা আট দফা দাবি জানিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে সব পর্যটন কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও গুইমারা উপজেলায়। রোববার গুইমারায় সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে তিনজন নিহত এবং সেনাসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। সোমবার সকালেও গুইমারা ও খাগড়াছড়ি সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ, দোকানপাট বন্ধ এবং জরুরি প্রয়োজনে সামান্য অটোরিকশা চলাচল ছাড়া জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
অবরোধের সময় পিকেটাররা বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা ব্যারিকেড বসালেও প্রকাশ্যে তেমন কোনো মিছিল বা সমাবেশ হয়নি। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ, সেনা ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদর, পৌরসভা ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করে পুলিশ রিমান্ডে নিলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনও ধরা পড়েনি। এ নিয়ে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। জুম্ম ছাত্র জনতা অভিযোগকারীর বিচার, অবরুদ্ধদের ক্ষতিপূরণ, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারসহ আট দফা দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও অবরোধের ঘোষণা থাকলেও সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে খাগড়াছড়িতে জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ এবং মানুষ আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ফিরোজুর রহমান মোবাইল: 01947314055