আসলাম উদ্দিন, প্রতিবেদক।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে টানা দুই দিন ধরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
প্রথম দফায় শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে ভাড়া বাসার দারোয়ান মারধর করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন। এ সময় দারোয়ান পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং মাইকিং করে আরও মানুষ ডেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৬০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর পরদিন রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে একই এলাকায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে আবারও শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ আরিফও রয়েছেন।
চবি মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. ফারহানা বলেন, “আজ একদিনেই শতাধিক আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। এত বড় হতাহতের ঘটনা আমার কর্মজীবনে দেখিনি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, আহতদের অনেকেই ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও ইটপাটকেলের আঘাতে জখম হয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক আহতকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন। নির্দেশনায় বলা হয়, ৩১ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজার এলাকা থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-মিছিল, গণজমায়েত ও অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ফিরোজুর রহমান মোবাইল: 01947314055