আসলাম উদ্দিন, প্রতিবেদকঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যেই একের পর এক দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। সর্বশেষ ফ্রান্স এ স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে। এর আগে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল একই সিদ্ধান্ত নেয়। মার্চে মেক্সিকোও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ফলে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে ১৫২টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দাবিকে আরও জোরালো করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও গাজার রাজনৈতিক সংগঠন হামাস স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইসরায়েল এটিকে “শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর” আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা চলছে। প্রায় দুই বছরে সেখানে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২১ লাখেরও বেশি মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থা আইপিসি ইতিমধ্যেই গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, পরিস্থিতি ক্রমেই গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে আরও দেশ, যা ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় মাত্র ১৩৭টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।
বাংলাদেশ শুধু কূটনৈতিক সমর্থনেই থেমে থাকেনি, বরং আরব-ইসরায়েল যুদ্ধকালীন সময়ে ফিলিস্তিনি জনগণকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফোরামেও নিয়মিত ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতিদানকারী দেশের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন এ সিদ্ধান্ত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ফিরোজুর রহমান মোবাইল: 01947314055