আসলাম উদ্দিন, প্রতিনিধিঃ
রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দী। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙামাটি–বান্দরবান সড়কে বাসও চলছে না। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার হ্রদের পানি সামান্য কমেছে।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁধের ১৬টি গেট খুলে সাড়ে তিন ফুট করে পানি ছাড়া হয়। এতে কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেড়ে চন্দ্রঘোনা ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ফেরি চালু না হওয়ায় রাঙামাটি–কাপ্তাই ও বান্দরবান সড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জানান, কয়েক দফায় পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। শুক্রবার সকাল ৮টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৮ দশমিক ৭৪ ফুট, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য কম। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার মাত্রা কমলেই ফেরি চলাচল শুরু করা যাবে।
রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার প্রায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ১০৩টি পরিবার ঠাঁই নিয়েছে। বিহারপুর, মাস্টারপাড়া, খেদারমারা, আমতলী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। লংগদুতে একাই প্রায় দুই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত।
মানিকছড়ি বিসিক শিল্পনগরের প্রায় ৪০টি কারখানা প্লাবিত হলেও বর্তমানে ১৫টিতে পানি রয়েছে। শিল্পনগরের তিনটি সড়কে এখনো পানি থাকায় যানবাহন ও মালামাল পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে।
পানিবন্দী এলাকাগুলোতে প্রশাসন শুকনা খাবার ও জরুরি সহায়তা দিচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ফিরোজুর রহমান মোবাইল: 01947314055