স্টাফ রিপোর্টারঃ
নাচ-গান, ভোজের আয়োজন, চারপাশে প্যান্ডেল — সব ছিল প্রস্তুত। কিন্তু হ্যাপি এন্ডিং হলো না। বর সোজা চলে গেলেন কারাগারে, আর অষ্টম শ্রেণিতে পড়া কিশোরী মেয়েটি ফিরে পেল নিজের জীবন ও স্বপ্ন।
ঘটনাটি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর নতুনপাড়া গ্রামে। মাত্র অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইতি খাতুনকে (নাজিরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) জোর করে বিয়ে দিতে উদ্যত হয়েছিল পরিবার। অন্যদিকে বর বাহারুল ইসলাম (২৫), পেশায় ব্যবসায়ী, এসেছিলেন ঘটা করে বিয়ে করতে। কিন্তু শেষমেশ হাতে গোনা মেহমানের বদলে তিনি পেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা — ২ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা।
এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হানা দেন বিয়েবাড়িতে এবং বরকে হাতেনাতে ধরেন। তখনই বন্ধ করে দেওয়া হয় বাল্যবিয়ের আয়োজন।
ইতি খাতুন নিজের মুখে বলেছে:
আমি লেখাপড়া করে অনেক দূর যেতে চাই। কিন্তু পিতামাতা আর প্রতিবেশীর চাপে বিয়েতে রাজি হতে হয়েছিল। ইউএনও ম্যাডাম সময়মতো না এলে হয়তো আজ আমার জীবন থেমে যেত। এখন আমি আবার স্কুলে যেতে পারব, খেলতে পারব, স্বপ্ন দেখতে পারব।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অনেকে জানিয়েছেন — মেয়েটি চঞ্চল, মেধাবী এবং খেলাধুলাতেও পারদর্শী। অথচ তার স্বপ্ন চুরমার করে দিচ্ছিল পরিবার।

