আসলাম উদ্দিন, প্রতিবেদকঃ
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে সহিংসতার জেরে পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়ি এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলা প্রশাসন শনিবার থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরাও ‘পর্যটন সাময়িক বন্ধের’ ঘোষণা দেন। এর ফলে সাজেকমুখী শত শত পর্যটক পথিমধ্যে আটকে পড়েন।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাজেক থেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দীঘিনালা সেনা জোন ও বাঘাইহাট সেনা জোনের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের জোড়া ব্রিজ সীমান্ত হয়ে জেলা সদরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে যাওয়া পর্যটক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “অবরোধের কারণে আমরা সাজেকে আটকে পড়েছিলাম। স্থানীয়রা সহায়তা করেছে, সেনাবাহিনী আমাদের নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছে।”
চলতি সপ্তাহের পুজোর ছুটি ঘিরে সাজেকের প্রায় ৮৫টি রিসোর্ট এবং খাগড়াছড়ি সদরের অন্তত ২০টি হোটেল আগে থেকেই ফুল বুকড ছিল। সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের তথ্যমতে, একসঙ্গে প্রায় ২,৬০০ থেকে ৩,০০০ বুকিং হয়েছিল। কিন্তু সহিংসতার কারণে সব বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক পর্যটক ভবিষ্যতে আসার ইচ্ছা জানালেও বেশিরভাগই টাকা ফেরত চাইছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পূজোর ছুটির জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু পর্যটক শূন্যতার কারণে এ মৌসুমের ব্যবসা একেবারেই ভেস্তে গেছে। খাগড়াছড়ির হোটেলগুলোর অবস্থাও একই। শহরের সুপরিচিত হোটেল গাইরিংসহ বিভিন্ন হোটেলের সব বুকিং বাতিল হয়ে এখন সম্পূর্ণ খালি পড়ে আছে।
অন্যদিকে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র স্বাভাবিক থাকায় সেখানে পর্যটকদের প্রবেশ শুরু হয়েছে। তবে সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, তারা আশা করছেন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং পর্যটকরা আবার সাজেকে ভ্রমণে ফিরতে পারবেন।

