আসলাম উদ্দিন, প্রতিবেদক
বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুমে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ, নৌযান চলাচল ও মাছ শিকারে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। আজ থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে।
উপকূলীয় বনজীবী পরিবারগুলো এখন মাছ ও কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ব্যস্ত ট্যুর অপারেটররা। খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী গ্রামের জেলে সিরাজুল গাজী বলেন, “তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে ছিলাম। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন অনুমতিপত্র নিয়ে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আবার বনে যাচ্ছি।”
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আজম ডেভিড জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় প্রথম দিনেই কয়েকটি পর্যটকবাহী নৌযান সুন্দরবনে যাবে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামনে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার কারণে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের নির্দেশনায় ট্যুরিস্ট নৌযানগুলোতে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে— পর্যটকদের নৌকা থেকে নামানোর সময় লাইফ জ্যাকেট পরানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বহন নিষিদ্ধ এবং পানির জন্য প্লাস্টিক বোতলের বদলে স্টিল বা কাচের বোতল ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জে ২ হাজার ৮৭১টি ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৩ হাজার ২টি নৌকা নিবন্ধিত রয়েছে। এসব নৌকায় করে বনজীবীরা মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করেন। তবে বর্তমানে কেবল মাছ ও কাঁকড়া শিকারিরাই প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, “সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, মৎস্য সম্পদেও সমৃদ্ধ। এই সম্পদ সংরক্ষণে ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। ২০২২ সাল থেকে সময় বাড়িয়ে তিন মাস করা হয়েছে। এর সুফলও এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”

