আসলাম উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে সাধারণত অক্টোবর মাস থেকে পর্যটন মাস শুরু হয়, যা চলে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি যার পিক সিজন ধরা হয়। পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। এই প্রতিবেদক সরেজমিনে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনটাই দেখতে পান। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট, ইনানী, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক সহ প্রতিটা জায়গায় পর্যটকের প্রচুর ভিড় দেখা যায়। হোটেল মোটেল প্রায় সবই পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত। খাবার হোটেলগুলোতেও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সপ্তাহের শুক্র-শনি এবং ছুটির দিনগুলোতে এই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ঘুরতে এসে সিরাজগঞ্জ থেকে আগত পর্যটক জান্নাত আরা বলেন, আমরা পরিবার ও বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছি। কক্সবাজারকে পর্যটনের স্বর্গ বলা হয়। এখানে দারুন আবহাওয়া, বিশাল সমুদ্র আমাদের মন ভরিয়ে দেয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য আমাদের ভ্রমন আরো উপভোগ্য হয়।
তবে ভিড় বাড়ার সাথে সাথে হোটেল মোটেলের ভাড়াও বেশ বাড়তি লক্ষ্য করা যায়। এ নিয়ে কয়েকজন পর্যটকের সাথে কথা বললে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে খাবারের রেটও বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে পাকঘর নামক রেস্টুরেন্টের মালিক জনাব মামুন বলেন, যদিও এখনও আমরা তিন বছর আগে নির্ধারণ করা দামেই পর্যটকদের খাওয়াচ্ছি কিন্তু খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দামও বাড়ানো ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।
হোটেল রুমের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে সি ওয়েলকামের ম্যানেজার জনাব জুবায়ের মাহমুদ বলেন, সাধারণত পর্যটনের সময় এবং চাহিদার উপর দাম হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে থাকে। এখন যেহেতু পর্যটনের মৌসুম শুরু হয়েছে এবং রুমগুলোর প্রচুর চাহিদা, সুতরাং প্রতিটা হোটেলেই দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বেশিরভাগ রুমই অগ্রিম বুকিং হয়ে যাচ্ছে।
পর্যটকের এই চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে হোটেল মোটেল এবং রেস্টগুলো প্রস্তুত এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

