শহীদুল আলম রাজৈর প্রতিনিধি :
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গাংকান্দী শাখারপাড় গ্রামে তিন সন্তানের জননীর রহস্য জনক মৃত্যু। এটা পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়ন-এর গাংকান্দি শাখারপাড় গ্রামে। মালয়েশিয়া প্রবাসী শিপন মোল্লার স্ত্রী, তিন সন্তানের জননী রুমি বেগম (২৯)-এর ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে শিপন মোল্লার সঙ্গে রুমির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিপন মোল্লার ছোট ভাই রিপন মোল্লা বড় ভাবি অর্থাৎ রুমি বেগমকে সহ্য করতে পারতো না বলে নিহতের পরিবারের দাবি।
পরিবার সুত্রে আরো জানা যায় গত দুই বছর আগে রুমির বাবা মেয়ের সংসারে সুখ শান্তি বলবৎ রাখার জন্য অনেক ধার দেনা করে মেয়ের জামাই ( শিপন মোল্লা) কে মালায়শিয়া পাঠিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সেই দেনা শোধ করতে পারেন নি। রুমির বড় মেয়ে ক্যান্সারের রুগি। তার চিকিৎসা করতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্ত রুমির শশুর বাড়ীর ধারনা শিপন মোল্লা প্রবাসে রোজগার করে সমস্ত টাকা শশুর বাড়ী দিয়ে দেয়। এটা নিয়েও রুমির দেবর ননদ ও শাশুড়ির সাথে প্রতিনিয়ত কথা কাটাকাটি চলতেই থাকতো। ইদানিং রুমির ননদ, দেবর রুমির চরিত্র নিয়েও বিভিন্ন কুৎসা রটাচ্ছিল তাই এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে রুমির বাবা মায়ের ধারনা।
নিহতের বড় বোন সুমি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই তার বোনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। ঘটনার আগের রাতেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রুমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যারই ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে এবং লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

