আসলাম উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ সদর প্রতিনিধি:
সি টু সামিট- কক্সবাজার থেকে পায়ে হেঁটে এভারেস্ট জয়ের উদ্দেশ্যে ১৭ মার্চ সোমবার বিকেল ৪:০১ মিনিটে টাঙ্গাইল প্রান্ত থেকে যমুনা পার হন অভিযাত্রী ইকরামুল হাসান শাকিল। ৩ঘন্টা ৫৪মিনিট পানিতে সাঁতরে, চরে হেটে যমুনা পার হয়ে সিরাজগঞ্জ প্রান্ত পৌঁছেন। উল্লেখ্য যে, যমুনা সেতুতে পথচারী পারাপারের অনুমতি না থাকায় তিনি সাঁতরে পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় তার সাথে সাঁতারে অংশ নেন বাংলা চ্যানেল জয় করা হোমায়েদ ইসহাক মুন সহ আরো কয়েকজন নামকরা পর্যটক। সিরাজগঞ্জে তাকে স্বাগত জানায় স্মার্ট ট্যুরিজম ও ট্যুর ক্লাবের পরিচালকগন, দৈনিক বাংলাদেশের দিনকাল ও প্রথম আলো বন্ধুসভার সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।
‘সি টু সামিট’ অভিযানে কক্সবাজার থেকে হেঁটে মাত্র ৯০ দিনে এভারেস্ট জয় করার সংকল্প গাজীপুরের ছেলে পর্বতারোহী শাকিলের। এ সময় তিনটি দেশের মধ্য দিয়ে মোট ১৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবেন তিনি। এরপর চড়বেন ২৯০৩১ ফুট উঁচু এভারেস্টে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানী থেকে হাটা শুরু করেন তিনি।
বিভিন্ন সময় পর্বতারোহণের পাশাপাশি নানা ধরনের অভিযান করেছেন শাকিল। কলকাতা থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকায় আসা প্রথম ব্যক্তি তিনি! কোভিডের সময় যখন পরিকল্পনা করেন বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেকিং পথ ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’ জয়ের। দেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ১৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দেন ১০৯ দিনে, যা এখন পর্যন্ত করতে পেরেছেন মাত্র ৩৩ জন।
এতসব করার পর এই পর্বতারোহীর পরবর্তী লক্ষ্য মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা। তবে এখানেও ব্যতিক্রম কিছু করার কথা ভাবছেন তিনি যার ফলাফল ‘সি টু সামিট’ পরিকল্পনার!
এর আগে ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ সমুদ্র থেকে হেঁটে সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করার অভিযান শুরু করেন। তিনি ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। ১২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এভারেস্ট জয় করতে তার সময় লেগেছিল ৯৬ দিন। টিমের এই রেকর্ড ভেঙ্গে ৯০ দিনে ১৩০০ কিলোমিটার হেঁটে এভারেস্ট জয় করে নতুন রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা শাকিলের। সফল হলে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে সমুদ্র থেকে হেঁটে এভারেস্ট জয় করার বিশ্বরেকর্ড গড়বেন তিনি।
১৯ মার্চ (বৃহঃবার) ভোরে সিরাজগঞ্জ শহর থেকে যাত্রা শুরু করে সোনামুখি হয়ে ধুনটে অবস্থান করবেন। এরপর ধুনট থেকে মহাস্থানগড় হয়ে বগুড়া ক্রস করে এগিয়ে যাবেন সামনের দিকে।

