আসলাম উদ্দিন, প্রতিবেদকঃ
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা এখনো কাটেনি। এর প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’-এর আহ্বানে মঙ্গলবারও জেলার বিভিন্ন সড়কে অবরোধ চলছে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কে আংশিক শিথিলতা থাকলেও দূরপাল্লার বাস এখনো চলাচল শুরু করেনি। অভ্যন্তরীণ রাস্তায় সীমিতসংখ্যক অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ এবং রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। কয়েকজন একত্রিত হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত রোববার অবরোধ চলাকালে গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে গুলিতে তিন পাহাড়ি যুবকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন আথুই মারমা (২১), আথ্রাউ মারমা (২২) ও তৈইচিং মারমা (২০)। ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সোমবারের পর থেকে আর কোনো নতুন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখার উদ্দিন খন্দকার বলেন, অবরোধ না উঠা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শয়ন শীলকে আদালত ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে টিউশন শেষে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। রাতেই স্বজনরা তাকে অচেতন অবস্থায় খেত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
অবরোধ-সহিংসতায় বিপর্যস্ত খাগড়াছড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কবে ফিরবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

