আল-আমিন হোসেন, (সিরাজগঞ্জ):
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনগাঁতী দক্ষিণপাড়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকায় বর্তমানে চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তার ওপর হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় পাঁচ শতাধিক মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ডের সাইফুলের বাড়ি থেকে আলম হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৩০ মিটার রাস্তা বছরের পর বছর কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদামাটির সাগরে পরিণত হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী পরিবহন পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর মেয়রের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।
একাধিক ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয় ছেলেমেয়েদের। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না, কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি যেন হাঁটুপানি কাদার খালে পরিণত হয়।”
৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আলম হোসেন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। মুসল্লিরাও প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে মসজিদে যান। বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। আমরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছি।”
বেলকুচি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, “রাস্তাটি আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আগামী বাজেটে এটি পাকাকরণের জন্য সুপারিশ করব।”
বেলকুচি পৌরসভার প্রকৌশলী নাসরিন খাতুন বলেন, “রাস্তাটির অবস্থা এতটা নাজুক তা আগে জানা ছিল না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নতুন আবেদন চাওয়া হয়েছে। বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুজ্জামান বুলবুলও আশ্বাস দিয়ে বলেন, “রাস্তাটির আবেদন ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। আগামী বাজেটেই পাকাকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

