মাহমুদুল হাসান শুভ কাজীপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে কাজ দেয়ার কথা বলে এক বাক প্রতিবন্ধীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না নেয়ার ও অভিযোগ রয়েছে। বাক প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া বয়স ৩৫, বছর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্হলবাড়ী গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের গাজী খোশলেহাজের ছেলে রুবেল মিয়া। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যপক রহস্যময় সৃষ্টি হয়েছে, জানা গেছে যে বাক প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া ও একই গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী সালামকে কাজ দেয়ার কথা বলে মানিকগঞ্জে নিয়ে যায় একই গ্রামের গাজী খোশলেহাজের ছেলে রুবেল মিয়া।
এক সপ্তাহ আগে রুবেল ও সালাম বাড়ি ফিরে আসেন তবে ঘটনার ১৮ দিন হয়ে গিয়েছে বাড়ি ফেরেন,নিয়ে ও-ই প্রতিবন্ধী শিপন মিয়া। স্হানীয় বাসিন্দা কাছে থেকে জানা গেছে. রুবেল মিয়া এলাকার বিভিন্ন পাগলদের নিয়ে কৃষি কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতেন রুবেল মহাজনদের সাথে কথা বলে মজুরি নিতেন। মজুরি থেকে একটা অংশ কেঁটে নিয়ে বাকী টাকা পাগল শ্রমিকদের দিতেন, এতে কাজ না করেই শ্রমিকদের চেয়ে বেশি আয় হতো তার। এবার শিপন ও একই গ্রামের সালামকে নিয়ে গত মাসে কাজের কথা বলে মানিকগঞ্জ যায়, পরে এক সপ্তাহ পরে তারা বাড়ীতে আসে কিন্তুু শিপন আর বাড়িতে আসেননি।
এলাকার লোক জনেরা বলতেছে যে, রুবেল শুধু পাগলা দের নিয়ে কাজে যায় তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক না দিয়ে কম টাকা দিতো। এবার শিপন পাগলা নিয়ে কোথায় যে রেখে এসেছে আল্লাহ তায়ালা ভালো জানে, রুবেল কে বললে সে কিছুই বলছে না চুপ করে থাকে আর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে।
গতকাল সকাল থেকে রুবেল পলাতক তার ফোনও বন্ধ শিপনের পরিবার আমাদের জানিয়েছে যে, এর আগে রুবেল শিপনসহ বিভিন্ন পাগলদের কৃষি কাজ করার জন্য নিয়ে যেত বিভিন্ন এলাকায় এর আগে অন্য জেলাতেই না গেলেও কাজিপুরে চর কাজের জন্য যেতো। এবার শিপন কে নিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। সে আমাদের কাছে থেকে গত রাতে ফোন দিয়ে দুই হাজার, ও সকালে দশ হাজার, টাকা দামি করেছে রুবেল। শিপন স্ত্রী বলেন আমাদের, আমার স্বামী কে নিয়ে কাজে গিয়েছে আজ ১৮ দিন আগে, এর আগে চরে নিয়ে গেয়ে ছিলো কামলা দিতে। কিন্তুু এবার আর ফিরে আসে নাই, তার মানে রুবেল আমার স্বামী কে বিক্রি করে দিয়েছে তা ছাড়া অবশ্যই সে বাড়ি ফিরে আসতো। তিনি আরো বলেন সে আমার স্বামী কে অনেক ঠকাইছে তা বলে আমি শেষ করতে পারবো না আমি আমার স্বামী কে ফেরত চাই।
শিপনের ছোট ভাই সজীব বলেন, আমরা গতকাল কে থানায় গেছিলাম অভিযোগ দিতে, কিন্তুু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি,অভিযুক্ত রুবেলের সাথে কথা বলতে তার বাড়ী গিয়ে পাওয়া যায়নি। তার ফোন ও বন্ধ রয়েছে রুবেলের স্ত্রী বলেন তার সাথে কথা হয় না তাও সাত, আট দিন হলো। রুবেলের বাবা বলে আমরা কিছু জানি না ছেলের সাথে আমাদের কথা বার্তা চলে না। কখন কী করে না করে আমরা কিছুই জানি না।
স্হলবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, গত রাতে এ বিষয় নিয়ে বসা হয়েছিলো সেখানে রুবেল স্বীকার করেছে শিপন কে নিয়ে রেখে এসেছে। ও কোথায় রেখে এসেছে এটা সঠিক তথ্য আমাদের বলে নাই। শিপন কে আনতে যাওয়া কথা রুবেলের সে জন্য রাতে দুই হাজার টাকা ও চেয়েছে। আবার বলে সকালে দশ হাজার টাকা চেয়ে বলছে এর কম হবে না। এর পরে থেকে রুবেল পলাতক তার ফোন ও বন্ধ রয়েছে।
এই এবিষয়ে কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি, শহিদুল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম সেখানে কাজে গিয়েছিল সেই এলাকার অভিযোগ দিতে হবে। আইনের তো একটা বিষয় আছে।

