মো: শিবলু রহমান শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়া শেরপুর উপজেলার মহিপুর নতুনপাড়াস্থ গ্রামের মোঃ আশিক মিয়া (২৮), পিতা-মোঃ আকালু মিয়া শাজাহানপুর থানায় ১২/১৩ জন দুুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন যে, তিনি পেশায় একজন ধান ও চাল ব্যবসায়ী। গত ৫ ফেব্রুয়ারী, দুপুর অনুমান ১ টায় এক মহিলা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হতে ভিকটিমের মোবাইলে ফোন দিয়ে ধান বিক্রয় করবে বলে জানায়। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে তাদের কথা মত সরেজমিনে দেখে ধান ক্রয় করার জন্য বি-ব্লক বাজারে আসেন। দুষ্কৃতিকারীরা ভিকটিমকে পূর্বপরিকল্পনা মতে সিএনজি যোগে শাজাহানপুর উপজেলার জয়ন্তীবাড়ী গ্রামস্থ মোঃ শাওন পারভেজ (২৮), পিতা-মোঃ ফিরোজ আহমেদ এর বসতবাড়ীতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দুষ্কৃতিকারীরা ভিকটিমের পকেটে থাকা ৫,৫০০/-(পাঁচ হাজার পাঁচশত) টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। ভিকটিমকে ঘরের ভিতর আটকে উলঙ্গ করে জনৈকা নারীর সাথে খাটের উপর বসে দুই হাত ধরাধরি করে বসে থাকতে বাধ্য করে এবং অশ্লীল ভিডিও ও স্থির চিত্র ধারণ করে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভিকটিমের নগ্ন ভিডিও সোস্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং ভিকটিমের নিকট ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা চাঁদাদাবী করে। ভিকটিম জীবন রক্ষার্থে দুষ্কৃতিকারীদেরকে নগদ এক লক্ষ আটত্রিশ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ৪টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মামলা না করার হুমকি দিয়ে তারা ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। ভিকটিমের উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাজাহানপুর থানার মামলা নং-১৩, তাং-১২/০২/২০২৪ খ্রিঃ ধারা: ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ৮(১)/৮(২)/৮(৩) তৎসহ ১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩৬৪(এ)/৪২০/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। ঘটনার পর থেকেই র্যাব আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারী, র্যাব-১২, সিপিএসসি, আভিযানিক দল শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামী মোঃ শাওন পারভেজ (২৮)কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শাওন জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, টাকার ভাগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসাতেই ভিকটিম, জনৈকা নারী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা ভিকটিমের সাথে জনৈকা নারীর কিছু ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাজাহানপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।

